
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দিন সিলেটে কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এই মামলায় সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়রসহ ৩৩ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে । সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে সিলেটের আখালিয়ার সুরমা আবাসিক এলাকায় বসবাসরত মোঃ বায়জিদ আলম (১৯) বাদী হয়ে অভিযোগটি দায়ের করেছেন। দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৯/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৩২/৩৪ ধারাসহ ১৯০৮ সনের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আসামীরা বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা ও এর আশপাশের এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর চড়াও হয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। আসামীদের ছোড়া গুলি ও মারধরে পুলিশ সদস্য এবং ছাত্র সমন্বয়কসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। জুলাই ও আগস্ট মাসজুড়ে চলা এই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কঠোর হাতে দমনের লক্ষ্যে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং জনতার ওপর দেশব্যাপী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বর্তমানে সরকার পতনের পর দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং এর পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই-আগস্টের ওইসব বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আইনি বিচারের আশায় অসংখ্য মামলা দায়ের করছেন। কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া এই মামলাটিও সেই চলমান আইনি প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
দায়েরকৃত এই মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সিলেট-৪ আসনের সাবেক মন্ত্রী মোঃ ইমরান আহমদ (৬০), প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের শফিকুর রহমান চৌধুরী (৬২), সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব (৫০), সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (৫০), জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী (৫০), শাহাব উদ্দিন (৫৫), আবুল হোসেন (৪৫), নেতা তবারক আলী (৫৩), নজরুল শিকদার (৫২) এবং নেতা আজিম উদ্দিন (৪০)। এছাড়াও এই মামলায় আসামী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন আলীম (৪০), জব্বার মিয়া (৩৫), মোঃ আব্দুল্লাহ উরফে খালেদ (৪৫), আজিজুর রহমান (৪৮), মতিলাল নাথ (৫৫), গহর মিয়া (৫০), টিটু আনোয়ার (৪০), রাজিব আহমদ (৩২), মুজিবুর রহমান (৫০) এবং মোঃ আলী হোসেন (৩০)। বর্তমানে কোতোয়ালী মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ ফকরুল ইসলামকে এই মামলাটির তদন্তভার অর্পণ করা হয়েছে, যিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।