1. live@www.prime-news24.online : - : - -
  2. info@www.prime-news24.online : - :
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোয়াইনঘাটে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নেতৃত্বে ডাকাতির চেষ্টা: দুইজনকে আটকে গণপিটুনি গোয়াইনঘাটে জামায়াত কর্মীকে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ মাদকাসক্তের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার ওসির ছত্রছায়ায় খনিজ সম্পদ লুট ও মাদকের হাট: মাসিক আয় অর্ধকোটি প্রবাসে ছাত্রদল নেতার ফেসবুক পোস্ট, দেশের বাড়িতে হামলা, বাবার মৃত্যু ও মামলা এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান হলেন রূপায়ণ গ্রুপের মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল প্রাচনী পিলার ও কয়েন চক্রের ১০ পর্বের ২য় পর্ব আহাদুল ইসলাম দুলাল ও আব্দুল মনসুর পরিচালিত প্রাচীন পিলার ও কয়েন প্রতারণা চক্র রাশিদার রাশিফল (দ্বিতীয় পর্ব) : ডাক্তার সাবরিনা রহস্যময়ী রাশিদা: অলৌকিকত্বের আড়ালে এক নিঃসঙ্গ শৈশব : ডা. সাবরিনা আসক এর সিলেট বিভাগীয় কমিটি ২০২৬ অনুমোদন গোয়াইনঘাটে সরকারি গাছ কাটার মহোৎসব: মামলার প্রস্তুতি, নেপথ্যে কারা?

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার ওসির ছত্রছায়ায় খনিজ সম্পদ লুট ও মাদকের হাট: মাসিক আয় অর্ধকোটি

সিলেট প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানা এখন চোরাচালান আর লুটের নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মাদক, বিড়ি, কয়লা চোরাচালান এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালি ও পাথর লুটে সরাসরি মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য-সব মিলিয়ে ওসির মাসিক অবৈধ আয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা!

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ওসির ‘ঘুস-বাণিজ্য’
গোয়েন্দা সংস্থার সংরক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাহিরপুর থানায় যোগদানের পর থেকেই ওসি আমিনুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত সোর্স মোটরসাইকেল চালক উজ্জল এবং থানার কয়েকজন অসৎ অফিসারের মাধ্যমে ঘুসের এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ওসিতে যোগ দিয়েই একটি মামলার আসামির ভাইয়ের কাছ থেকে রঙিন টেলিভিশন উপহার নেন তিনি।
জাদুকাটা নদীসহ বিভিন্ন সীমান্ত নদীতে ড্রেজার ও সেইভ মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালি-পাথর তোলার জন্য বালি খেকোদের কাছ থেকে অগ্রিম ১৫ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সোর্স উজ্জল এবং এসআই পংকজের মাধ্যমে নদী থেকে বালি লুটকারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয়ভাবে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকলেও তাহিরপুরে চিত্র উল্টো। অভিযোগ রয়েছে, ওসির প্রত্যক্ষ মদদে উপজেলার ৭টি বিটে প্রায় ৩০ জন পেশাদার মাদক ও ভারতীয় নাসির বিড়ি কারবারিকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
মাদক ও বিড়ি কারবারিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ওসির পকেটে যাচ্ছে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মালেক এবং ওসির সোর্স বাবুল ও উজ্জল দিনভর মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে সীমান্ত এলাকা থেকে চোরাচালানের টাকা সংগ্রহ করেন।
বড়ছড়া ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনকে ঘিরে কয়লা ও চুনাপাথর চোরাচালানের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন ট্যাকেরঘাট পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রিপন। এই খাত থেকে মাসে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুস আদায় করে ওসির সাথে ভাগাভাগি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গরু, মহিষ, কসমেটিকস ও থান কাপড় চোরাচালান থেকেও নিয়মিত মাসোহারা তোলা হয়।
এলাকার সাধারণ মানুষ মাদকসেবী ও চোরাকারবারিদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে ওসির দ্বারস্থ হলে তিনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ডায়েরি বা জিডি করার পরামর্শ দিয়ে দায় এড়িয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দা আহমদ আলী রেজা জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়ার পরও ওসি বিরক্ত হয়ে জিডি করতে বলেন। মূলত ঘুসদাতাদের রক্ষা করতেই তিনি সাধারণ মানুষকে আইনি গ্যাঁড়াকলে ফেলে দেন।
পুর্ববর্তী ডিবি পুলিশে কর্মরত থাকাকালীন ইয়াবাকান্ডে বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত ওসি মো: আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “টেলিভিশন একজন উপহার দিয়ে গেছেন, তবে তিনি আসামি কিনা তা আমার জানা নেই। আর কেউ সমস্যা মনে করলে জিডি করবে, এছাড়া পুলিশের কী করার আছে?”
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে সীমান্ত জনপদকে অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত করা এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট