
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতার বাড়িতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ১৫/১ রোডের ২৫/২/২/১ নম্বর বাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার পরিবারের ছেলে মোঃ মাহফুজ আহম্মেদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি ফোনে কয়েকজন স্থানীয় ছাত্রকে আন্দোলনে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া আন্দোলন প্রতিহত করতে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তার এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কিছু পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। স্থানীয় বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের পরিবারের উত্তেজনা কয়েক দিন ধরেই চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে হামলাকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে জানালা-দরজা ভাঙচুর করে এবং ঘরের বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
হামলার সময় বাধা দিলে মাহফুজ আহম্মেদের বাবা মোঃ বেলাল হোসেনকে দা ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তার মা মাকসুদা বেগমকেও লাঞ্ছিত করা হয়। পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা আতঙ্কে চিৎকার করলে হামলাকারীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে,
‘তোমাদের ছেলে রাজনীতি করে দেশে এলে তাকে টুকরো টুকরো করে ফেলব।”
পরিবার জানায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তারা নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন। মোঃ মাহফুজ আহম্মেদের বড় ভাইও একসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন, যা হামলাকারীদের আরো ক্ষুব্ধ করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফোন কল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বারবার প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছে পরিবারটি, ফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”