
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সজীবকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্তে তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ বাতিল করা হয়।
গত ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছেন। একই সাথে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এখন থেকে মেহেদী হাসান সজীবের সাথে কোনো ধরনের সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক না রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা-৫ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলম সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন সজীব। তিনি বিগত বেশ কিছুদিন ধরে দল থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নাহিদুজ্জামান নিশাদের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। প্রবাসে (যুক্তরাজ্য) অবস্থান করেও তিনি স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করা এবং আর্থিক মদদ দেওয়ার মতো দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বারবার সতর্ক করার পরও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে তার তৎপরতা অব্যাহত রাখেন, যার ফলশ্রুতিতে এই বহিষ্কারাদেশ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং চেইন অব কমান্ড সমুন্নত রাখতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করছেন। এই আকস্মিক বহিষ্কারাদেশের ফলে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী ও দলের সাথে বেইমানি করা কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।