
সিলেট নগরীতে পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্তের নৃশংস হামলায় আনহার আহমদ রুমন (২২) নামের এক কলেজছাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে নগরীর ইদগাহ পয়েন্ট সংলগ্ন আল্লাহু চত্বর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত আনহার আহমদ রুমন সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী জালালউদ্দিন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এবং আব্দুল মছব্বিরের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজে অধ্যয়নরত বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল যুবক তার পথরোধ করে। এ সময় তাকে জোরপূর্বক আটক করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং পৈতৃক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে।
হামলার একপর্যায়ে আনহার আহমদ রুমনের ডান পাশের তলপেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার হাতের একাধিক আঙুল কেটে যায়, যা প্রতিরোধমূলক আঘাত (ডিফেন্সিভ ইনজুরি) হিসেবে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল এবং জীবন রক্ষার্থে তাকে একাধিক ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
আহতের বাবা আব্দুল মছব্বির অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের পরিবারের ওপর নিয়মিত হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, এই হামলা ওই বিরোধেরই চরম ও সহিংস বহিঃপ্রকাশ।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল মছব্বিরের সঙ্গে তার দুই ভাইয়ের পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধচ লছিল, যা বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।