
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জের বাসিন্দা মফিজুর রহমান মুরাদকে কেন্দ্র করে ৮০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গোলাপগঞ্জের বিএনপি নেতা নোমান উদ্দিন মুরাদকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মফিজুর রহমান মুরাদ একটি রাজনৈতিক মামলায় ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। দেশে থাকাকালে তিনি বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গেও তার রাজনৈতিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এসব রাজনৈতিক বিরোধ ও মামলার কারণে মুরাদ যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরতে পারছেন না। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার জন্য হন্য হয়ে খোজতেছে।
মুরাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাটি নিয়ে তার বাবা মতিউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। মুরাদকে গ্রেফতারের জন্যে পুলিশ একাধিকবার তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে এবং মামলাটি কীভাবে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে মুরাদের বাবা মতিউর রহমান পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। এছাড়াও তিনি আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলার বিষয়ে পরামর্শ নেন এবং মুরাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাটি নিষ্পত্তি বা আইনগতভাবে সমাধানের সম্ভাব্য পথ খুঁজতে চেষ্টা করেন।
তবে মুরাদের বাবা পুলিশ ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। একপর্যায়ে তিনি মনে করেন, মুরাদ যেহেতু বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন, তাই দলের স্থানীয় কোনো নেতার সহযোগিতা পাওয়া গেলে হয়তো মামলাসহ উদ্ভূত সমস্যাগুলো সমাধানের পথে এগোনো সম্ভব হবে। সেই আশায় মুরাদের বাবা মতিউর রহমান গোলাপগঞ্জের বিএনপি নেতা নোমান উদ্দিন মুরাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ছেলের মামলার বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় মুরাদের মামলা উত্তোলনের জন্য বিএনপি নেতা নোমান উদ্দিন মুরাদ ৮০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বিপুল অঙ্কের এই অর্থের দাবি মুরাদের পরিবারকে আরও উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। মুরাদের বাবা মতিউর রহমানের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়। এরই মধ্যে মামলার বিষয়ে পুলিশ ও আইনজীবীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পাওয়ায়, চাঁদা দাবির বিষয়টি নিয়ে আবারও আইনের আশ্রয় নিতে তিনি সাহস পাচ্ছেন না। ফলে একদিকে ছেলের মামলা ও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে বিপুল অঙ্কের চাঁদা দাবি—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন তিনি।