
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও দেওকলস ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল করিমের বসতবাড়িতে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে তার বৃদ্ধ পিতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. নইম উল্ল্যা গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৫ ঘটিকার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে দেওকলস ইউনিয়নের ভগির চক গ্রামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল করিমের বাড়িতে হামলা চালায়। অভিযোগ উঠেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা একজোট হয়ে এই হামলা পরিচালনা করে। এ সময় তারা বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, এই সময়ে সারা দেশেই নতুন করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলার এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, যার ঢেউ এসে লাগে বিশ্বনাথের এই নিভৃত পল্লীতেও।
নিজের পরিবারের বসতবাড়িতে এমন নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চলতে দেখে বাধা দিতে এগিয়ে যান বৃদ্ধ পিতা মো. নইম উল্ল্যা। এ সময় ক্ষুব্ধ হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করে। অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা মারাত্মকভাবে ফেটে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তিনি মুহূর্তেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার মাথার আঘাত গুরুতর হওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, আব্দুল করিম দেওকলস ইউনিয়নে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এর আগেও গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছিল দুর্বৃত্তরা। তখন তারা হুমকি দিয়েছিল যে, আব্দুল করিম দেশে ফিরলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। সোমবারের এই হামলা সেই পূর্ববর্তী আক্রোশ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই একটি পরিকল্পিত রূপ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এদিকে, দিনের আলোতে এমন বর্বরোচিত হামলা এবং এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ভগির চক গ্রামসহ পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই ভয়াবহ ঘটনার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ ও সার্বিক পরিস্থিতি জানতে বিশ্বনাথ থানায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের নীরবতায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্বজনরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন।