
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নে এক ব্যবসায়ীকে গতিরোধ করে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে বঙ্গবীর-গুরুকচি সড়কে এই ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয় জনতা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাহার ও শাহীনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। তবে অভিযুক্তদের পুলিশে না দিয়ে স্থানীয় জিম্মায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়াইনঘাটের বঙ্গবীর থেকে গুজরাছি যাওয়ার সড়কে অপরাধী চক্রের তৎপরতা ইদানীং বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ওই পথ দিয়ে এক ব্যবসায়ী যাওয়ার সময় একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে তাকে জিম্মি করা হলে ব্যবসায়ীর স্বজন ও স্থানীয়রা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
এসময় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী পাঁচজন অভিযুক্তকে শনাক্ত করেন। তারা হলেন, গোয়াইন গ্রামের বাসিন্দা সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি বাহার, গুরুকচির বাসিন্দা শাহিন, হিরন, বাসিত ও দিদার।
উপস্থিত জনতা ধাওয়া করে মূল অভিযুক্ত বাহার ও তার এক সহযোগীকে ঘটনাস্থলে ধরে ফেলে গণপিটুনি দেয়। বাকি তিন সহযোগী অন্ধকারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ না করে বর্তমানে স্থানীয় জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বঙ্গবীর-গুরুকচি সড়কে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি চক্র সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। গতকালের ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী সময়ে গ্রাম্য সালিশ বা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ফয়সালার আলোচনা চলছে। তবে এই ঘটনায় এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।