
অতি বড় সুন্দরী না পায় বর – এই প্রবাদটা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি! সুন্দরী বউ মানেই পাকা বড়ই ভর্তি গাছ! যেখানে ফলের আশা থাকুক না থাকুক প্রেমিকরা ঢিল ছুঁড়বেই ! সন্তানের মা হয়ে যাবার পরও তাদের আগে পিছে সুযোগ সন্ধানী পুরুষ ঘুরঘুর করে। এদিকে, সুন্দরীরা ভাবে, মুই কি হনু রে! তাই তারা সংসারে মন দেয় না। তাদের মন সবসময় উড়াল পংখির মতো উচাটন !
তাছাড়া , গাও গেরামে সুন্দরীদের নামে নানাকরম মুখরোচক গাল গল্প প্রচলিত থাকে ! নামে বেনামে কেউ না কেউ বিয়ে ভাঙ্গানি দেয়!
রাশিদা ডাকসাইটে সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিয়ের সম্বন্ধ তেমন আসতো না ! এলাকায় সবাই জানে, তার বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা আছে ! বেডা মানুষ বউ হিসেবে দাসী চায়, দেবী কেউ চায়না!
বিশ বছর বয়স হয়ে গেল উপযুক্ত পাত্র পাওয়া গেল না ! পরে, গৌরিপুরে ফুপুর শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে গৌরিপুরের এক অবস্থাপন্ন গৃহস্থের সাথে রাশিদার তড়িঘড়ি করেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হলো! রাশিদার দৈহিক গঠন ছোট খাটো বলে অনায়াসে বিশ বছরকে পনের বছর বলে চালিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিলো!
তবে, রাশিদার সাথে জ্বিন বসত করে এটা যেমন পাত্রপক্ষ জানলো না তেমনি তার স্বামী খালেকের মনে যে অন্য নারী বসত করে এমনকি ভালো মতো খুঁটি গেড়েই বসত করে -এটাও রাশিদা আর তার পরিবারের অগোচরে রয়ে গেল ! সেই নারী আর কেউ না – রাশিদার আপন জা!
রাশিদার ভাসুর মালেক ছিলো ভোদাই কিসিমের ! হয়ত তার অটিজম ছিলো – অজ পাড়া গাঁয়ে কবিরাজের জ্ঞানে বেশিকিছু কুলায় না!
ধানক্ষেতের বর্গা দেয়া, হিসেব নিকেশ, ধান বেচার টাকা সুদে খাটানো এসব বিষয়ে মালেক বিলকুল অজ্ঞ! রাশিদার স্বামীই সব দেখাশোনা করতো! টাকা পয়সা জমিজমার বিষয়ে কথা বললে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকতো!
সকাল হলেই সে গরুর পাল নিয়ে মাঠে চলে যেত! কেমন করে সে দুই ছেলে পয়দা করেছে সে এক রহস্য ! স্ত্রী আংগুরির সাথে তার তিনবেলা খাবার ছাড়া আর বিশেষ কোন অন্তরঙ্গতা দেখা যেত না!
রাশিদার জা আংগুরি শ্যামলা বরণের ! মুখের গড়নও তেমন আহামরি নয় ! তারপরও ,তার দিকে তাকালে চোখ ফেরানো যায় কিন্তু মন সরানো দায় ! নারীশরীরে যেখানে যতটুকু আঁক বাঁক থাকলে তাকে চরম আকর্ষণীয় লাগে আংগুরির ঠিক ততটাই আছে ! তার যৌবনের ঝলক, রূপের চমক, নিতম্বে ঢেউ তুলে কলসি কাখে হেঁটে যাবার ঠমক সবকিছু যেন চোখে ধাঁধা লাগায় !
তার আবেদনের কাছে রাশিদাও বড্ড ফিকে!
(চলবে)