
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বঙ্গবীর-হাদারপার সড়কের পীরের বাজার এলাকায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সরকারি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় উপজেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই সড়কের ধারের গাছ নিধনের বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রশাসনের তাৎক্ষণিক অভিযান ও গাছ জব্দ
সংবাদ প্রকাশের পর গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীর নির্দেশে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় বন বিভাগ। স্থানীয় বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধভাবে কাটা বিপুল পরিমাণ গাছ জব্দ করেন। বর্তমানে জব্দকৃত এসব গাছ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে।
পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও দায় এড়ানোর চেষ্টা
গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপের পালা চলছে।
গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত হাজির আলী জানান, তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিনের নির্দেশেই শ্রমিক লাগিয়ে গাছগুলো কেটেছেন।
১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন শিহাব বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলী আমার কাছে গাছ কাটার জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন, আমি শুধু তাঁর কথামতো কাজ করেছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী হাসিব আহমদ দাবি করেন, তিনি নির্দিষ্ট কাজের স্বার্থে মাত্র চারটি গাছ কাটার বিষয়ে ইউএনও-র সাথে আলাপ করেছিলেন। এর বাইরে বিপুল পরিমাণ গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
স্থানীয় বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি না হলেও দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
হুকুমদাতাই হবেন প্রধান আসামি
এই নিধনযজ্ঞের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান। তিনি জানান- “গাছ কাটার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা নির্দেশ দিয়েছেন, তাদেরকেই মামলার প্রধান আসামি করা হবে। তবে কোনো নিরীহ শ্রমিক যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে।”
মামলার প্রস্তুতি ও জনমনে ক্ষোভ
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অপরাধীরা মামলার হাত থেকে বাঁচতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সচেতন মহল এই ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।