ভিডিও দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন
https://www.facebook.com/share/r/18wwjVgAft/
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অতর্কিত হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দমন-পীড়নে অর্থায়ন ও বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে পুলিশকে সহায়তার ক্ষোভ থেকে এই হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হামলার শিকার ওই নেতার নাম সৈয়দুল ইসলাম। তিনি জাউয়া বাজার ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে এই হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় শনাক্ত করা গেছে যারা স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ হাতে বাঁশ, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সৈয়দুল ইসলামের টিনশেড বাড়ির বাইরে অবস্থান নিয়েছে। তারা বৃষ্টির মতো চারদিক থেকে ঢিল ছুঁড়ছে। একপর্যায়ে হামলাকারীদের কয়েকজনকে বাড়ির চালের ওপর উঠে বেপরোয়াভাবে টিন ও চালা ভাঙচুর করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় এলাকায় আন্দোলনকারীদের শক্ত হাতে দমন করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মোটা অঙ্কের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন প্রবাসী সৈয়দুল ইসলাম। এছাড়া সে সময় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার করানোর ক্ষেত্রেও তিনি পেছন থেকে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মূলত সেই পুরনো আক্রোশ ও ক্ষোভের জের ধরেই বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এই হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এই হামলায় সৈয়দুল ইসলামের বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। হামলাকারীরা বাড়ির মূল ফটক ও দরজা-জানালা কুপিয়ে ও পিটিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। এরপর ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তারা আলমারি, শোকেস, খাট, সোফাসেটসহ দামি কাঠের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। এছাড়া ঘরের ভেতরে থাকা ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী পিটিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়। রান্নাঘরের তৈজসপত্র থেকে শুরু করে ঘরের কোনো কিছুই হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। সব মিলিয়ে হামলায় কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাতক থানার অধীন জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহাম্মদ মিরাজ গণমাধ্যমকে বলেন, 'সৈয়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়নে ইন্ধন জোগানোসহ থানায় সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ আইনের নিজস্ব গতিতে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে কারও ওপর ক্ষোভ থাকলে দেশের প্রচলিত আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে এবং এই হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"