ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ওপর চলমান দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় এবার জোরপূর্বক ভোট আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়েছে। ধানের শীষে ভোট দিতে বাধ্য করার অন্যায় চাপের তীব্র প্রতিবাদ করায় এক প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই নারকীয় হামলায় ওই নেতার পিতা গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের আনসার মহল্লা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কুটি মিয়া ও সাহেরা বেগমের সন্তান এমাদুর রহমান শিপু। শিপু বাঘা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। পরিবারের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে স্থানীয় বিএনপির একদল উগ্র সমর্থক সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী কুটি মিয়া এই অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক চাপের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জোরপূর্বক কারো ভোটাধিকার হরণ করা বা মতাদর্শ পরিবর্তন করানো সম্ভব নয়। তার এই সাহসী প্রতিবাদে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বিএনপি সমর্থক ওই দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তের মধ্যেই তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কুটি মিয়ার ওপর পৈশাচিক হামলা চালায়। বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি বৃদ্ধ কুটি মিয়াকে মাটিতে ফেলে অমানসিকভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এই বর্বরোচিত হামলায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকদের ওপর বিরোধী পক্ষের এমন ধারাবাহিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হামলাকারীরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা ছুটে এসে রক্তাক্ত কুটি মিয়াকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু তার মাথায় ও শরীরে আঘাত গুরুতর হওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাতেই তাকে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে পুরো বাঘা ইউনিয়নজুড়ে থমথমে ও ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার এই জঘন্য ও বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে ও মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, "নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো গোষ্ঠী যদি সাধারণ ভোটারদের জোরপূর্বক ভোট দিতে বাধ্য করে বা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে পুলিশ তা কঠোর হস্তে দমন করবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পেলেই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।"