সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নাজির বাজার এলাকায় এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বাড়িতে মধ্যরাতে সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল দুর্বৃত্ত প্রবাসী মো. রাসেল আহমেদের বাড়িতে এই বর্বরোচিত তাণ্ডব চালায়। দীর্ঘ আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই হামলায় বাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং ভেতরে থাকা নারী ও শিশুদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন সকালে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি সহায়তার জন্য দক্ষিণ সুরমা থানায় গেলেও পুলিশ তাদের অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করেনি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হঠাৎ করেই একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী রাসেল আহমেদের বাড়ি ঘেরাও করে। হামলাকারীরা প্রথমেই বাড়ির মূল ফটক ভেঙে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে, যার ফলে জানালার কাচ ও বাড়ির বাইরের অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে এমন আকস্মিক ও হিংস্র হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলা চলাকালে সন্ত্রাসীরা বাড়ির ভেতরে অবস্থানরত নিরীহ নারী ও শিশুদের উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা একচেটিয়া তাণ্ডবে বাড়িটি রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং ভেতরে অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা চরম অসহায়ত্ব ও মৃত্যুভয়ের প্রহর গোনেন।
এই বর্বরোচিত হামলার নেপথ্যে দীর্ঘদিনের এক পূর্বপরিকল্পিত আক্রোশ কাজ করেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। জানা যায়, মো. রাসেল আহমেদ সপরিবারে দেশে থাকাকালীন সময়ে স্থানীয় চিহ্নিত বখাটে যুবক মিছবা মিয়া তাঁর স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করত। রাসেল আহমেদ সপরিবারে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পরও বখাটে মিছবার এই হয়রানি থামেনি। যুক্তরাজ্যের নম্বরে ফোন করে মিছবা প্রতিনিয়ত রাসেল আহমেদ, তাঁর স্ত্রী এবং শিশুকন্যাকে চরম পরিণতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এবং সেই পুরনো আক্রোশ চরিতার্থ করতেই বৃহস্পতিবার রাতে বখাটে মিছবার নেতৃত্বে এই নারকীয় হামলা চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
হামলার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে দক্ষিণ সুরমা থানায় উপস্থিত হন। কিন্তু ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরের চেষ্টা করা
হলেও, থানা পুলিশ তা গ্রহণ করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়। পুলিশের এমন রহস্যজনক নীরবতা ও অসহযোগিতায় পরিবারটি আরও বেশি অসহায় ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত মিছবা মিয়ার সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের গভীর সখ্য রয়েছে। এই রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকার কারণেই সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। পূর্বেও তার বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসহযোগিতা এবং হামলাকারীদের মহড়ায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাসেল আহমেদের দেশে থাকা পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতির মধ্যে দিন পার করছে। যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় তারা নিজেদের বাড়িতেই একপ্রকার অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। অবিলম্বে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষী মিছবা মিয়া ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।