সুনামগঞ্জের ছাতক থানায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পরস্পরের সহযোগিতায় এবং আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সহায়তায় ছাতক পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর, কেপিআই স্থাপনা ও রাস্তাঘাটে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পতনের লক্ষ্যে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে অন্তর্ঘাতী কার্যের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। থানার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (FIR) অনুযায়ী, বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ১৫(৩) এবং ২৫০ ধারায় এই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণ নম্বর ২৪৩ এবং মামলা নম্বর ১৫ (তাং-১০/০২/২০২৫ইং)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের ছাতক থানাধীন ১১নং গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের সৈদেরগাঁও সাকিনস্থ নতুনবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৭০ থেকে ৭৫ জন নেতাকর্মী গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। পরবর্তীকালে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ১টা ১৫ মিনিটে ছাতক থানার একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা এলোমেলোভাবে ছুটাছুটি করে পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে জামাল আহমেদ (২৫) নামে একজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জামাল আহমেদ ছাতক সেওতরপাড়ার বাসিন্দা এবং তিনি ছাতক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বলে পুলিশকে জানান। ঘটনাস্থল থেকে ১টি রেজিস্টার খাতা এবং কর্মসূচির তালিকা সম্বলিত বেশ কিছু লিফলেট আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ, মামলার বাদী ছাতক থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) সৈয়দ গোলাম সরোয়ার এই এজাহারটি দায়ের করেন। এজাহারে গ্রেপ্তারকৃত ১ জনসহ মোট ৩২ জনের নাম ও সাংগঠনিক পদবি উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি ৪০ থেকে ৪৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য নামীয় পলাতক আসামিরা হলেন-ছাতক উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তাজামুল হক রিপন (৩৫), যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদির তালুকদার (২৯), রিয়াদ আহমদ চৌধুরী (২৪) ও তজামায়েল আহমদ ফরহাদ (২৭); ইসলামপুর ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ ফাহিম শাহরিয়ার রেজওয়ান (২৭); ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কাইয়ুম (৩৪); ইসলামপুর ইউপি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক মিজান (২৫) ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ (২৯); সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য পাপলু (২৪); ছাতক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফখরুল হাসান জেনিস (২৭); ছাতক উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাকির হোসেন (২৬), স্বপন দাস (২৭) ও আবেদ মিয়া (২৫)।
আসামির তালিকায় আরও রয়েছেন-৫নং চরমহল্লা ইউপি ছাত্রলীগের অর্থ সম্পাদক আবু সুফিয়ান (৩০); ৪নং কালারুকা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এইচএম বখতিয়ার (২৬); দোলার বাজার ইউপি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (২৮); সিংচাপইড় ইউপি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু তাহের নিরব (২৬); জাউয়া বাজার ইউপি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গৌরিকা পুরকায়স্থ বপন (২৪); ইসলামপুর ইউপি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আল-রহিম মজিদ (২৫); ছাতক সদর ইউপি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নয়ন দাস অপু (২৭) ও সাইফুর রহমান সিজান (২৪); জাউয়া বাজার ইউপি ছাত্রলীগের উপ-অর্থ সম্পাদক হাফিজুর রহমান সুমন (২৬); ছৈলা আফজলাবাদ ইউপি ছাত্রলীগের উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বদরুল আমিন (২৮); জাউয়া বাজার ইউপি ছাত্রলীগের উপ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক জিলু আহমেদ (২৫); ১০নং দোলার বাজার ইউপি ছাত্রলীগের উপ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান আল আমিন (৩১); জাউয়া বাজার ইউপি ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আল ইমরান তালুকদার রাব্বী (২৮); ছৈলা আফজলাবাদ ইউপি ছাত্রলীগের উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মুহিবুর রহমান তারেক (২৬); ছাতক সদর ইউপি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক অপু দাস (২৯); কালারুকা ইউপি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক তাশরীফ হোসেন (২৬); গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম (২৭) এবং দোলারবাজার ইউপি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সামছুদ্দিন রনি (২৫)।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া হাসান এজাহারটি প্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিকভাবে ধর্তব্য অপরাধের নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তদন্তের দায়িত্ব সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ সিকান্দর আলীকে প্রদান করেন। একই দিন আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ছাতক জোন, সুনামগঞ্জ মামলার প্রাথমিক বিবরণী অবলোকন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।