বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক এর যৌথ স্বাক্ষরিত সংঘঠনের এক প্যাডে লিখিত আকারে জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ গ্রামে জোর পূর্বক মন্দির নির্মাণের অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে পত্রিকার সম্পাদক বরাবরে এক লিখিত বিবৃতিতে জানান যে, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখা অত্যন্ত গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে জানাচ্ছে যে, সম্প্রতি জগন্নাথপুর থানাধীণ রানীগঞ্জ সাকিনস্থ বাবু সুবোধ চন্দ্র দাসের বাড়ীতে তাহার মৌরসী ও মালিকানাধীন ভূমিতে বিগত ০৫/০৭/২০২৪ইং বেআইনী ও জোরপূর্বক কতিপয় উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হয়েছে। উক্ত মৌরসী ভূমিটি বাবু সুবোধ চন্দ্র দাস ও তাহার পরিবারের আইনানুগ দখলীয় সম্পত্তি। কোন প্রকার আলোচনা বা আইন কানুনের তুয়াক্কা না করে কেবল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চড়াও হয়ে সম্পত্তি গ্রাস করার হীন উদ্দেশ্যে এই ভূমি দখলের অপচেষ্টা চলমান রহিয়াছে। যাহা অত্যন্ত দুঃখজনক, স্পর্শকাতর ও মানবতা বিরুদ্ধ কাজ। বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখা উক্ত ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
সংঘঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত লিখিত বিবৃতিতে আরো বলেন, কারো ব্যক্তিগত বা বৈধ সম্পত্তিতে অন্যায় ও জোরপূর্বক কোন স্থাপনা বা উপাসনালয় নির্মাণ দেশের প্রচলিত আইন ও মানবাধিকার ও ধর্মীয় সম্প্রীতির মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন নিরীহ ব্যক্তির ভূমিতে এ ধরনের দখলদারিত্ব কেবল ব্যক্তি অধিকার ক্ষুন্ন করে না বরং সামাজিক শান্তি ও ধর্মীয় সহাবস্থানকে চরম হুমকির মুখে ফেলে।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখা এই জোরপূর্বক দখলদারিত্ব ও স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাংগঠনিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীতভাবে নিম্নোক্ত দাবি জানিয়েছেনঃ-
১। অনতিবিলম্বে বাবু সুবোধ চন্দ্র দাসের ভূমিটি জোর পূর্বক দখলের ঘটনার সুষ্ট তদন্ত নিশ্চিত পূর্বক অবৈধভাবে স্থাপিত ভিত্তি প্রস্থর অপসারণ করতে হবে।
২। বাবু সুবোধ চন্দ্র দাস ও তাহার স্ত্রীর উপর হামলার সহিত জড়িত সকলকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩। প্রকৃত ভূ-সম্পত্তির মাালিককে তাহার আইনানুগ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪। উদ্দেশ্যে প্রনোদিত এহেন জঘন্য কর্মকান্ডের সাথে জড়িত সকলের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৫। ভূক্তভোগী সুবোধ চন্দ্র দাস ও তাহার পরিবাবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংঘঠনের পক্ষ থেকে ঐ বার্তায় আরো জানানো হয় যে, তাহারা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহবান জানান অবিলম্বে সরজমিনে তদন্তপূর্বক ঘটনার সার্বিক বিচার নিশ্চিত করা হয় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোন অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হয়।