রাজধানীর মিরপুরে এক যুবককে ছিনতাই ও হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতরভাবে আহত করেছে। রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর সেক্টরের প্রধান সড়কে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুইটি মোটরসাইকেলে চারজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত এসে ওই যুবকের গতিরোধ করে। তারা প্রথমে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, পরে লাঠি ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবক রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় কয়েকজন যুবক চিৎকার শুনে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিরপুর ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখান থেকে চিকিৎসকরা অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির বাম হাতে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এখনো তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
আহতের স্ত্রী সাজেদা ইসলাম লিসা জানান, "আমার স্বামীকে কয়েকদিন ধরে কিছু লোক অনুসরণ করছিল। আমি বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। আজ সেই আশঙ্কা সত্য হলো।" তিনি আরও জানান, তার স্বামীর নাম মো. নাছির উদ্দীন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এ ঘটনায় মিরপুর থানা যুবদলের সভাপতি সুমন আহমেদ বলেন, "নাছির উদ্দীন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। তার ওপর হামলাটি পরিকল্পিত বলে আমরা মনে করি। আমরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।"
ঢাকা মেডিকেল কলেজে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বিকাশ ধর বলেন, "এটি প্রাথমিকভাবে একটি বিচ্ছিন্ন ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে কেউ যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে চায়, আমরা তাও তদন্ত করছি।"
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ধারণা করছেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। কারণ, হামলাকারীরা নাছির উদ্দীনের নাম ধরে ডাকাডাকি করেছিল এবং তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েই আক্রমণ চালায় বলে তাদের ধারণা। ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।